এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: শুধু কসবার প্রৌঢ় অধ্যাপকই নন। ওডিশার অনন্যা ওরফে পিউয়ের প্রতারণার শিকার আরও অনেকেই। মাদক-মিশ্রিত কফি খাইয়ে কসবার অধ্যাপকের বাড়ি থেকে টাকা-সোনা নিয়ে চম্পট দিয়েছিলেন তাঁর ফেসবুক 'বান্ধবী' অনন্যা। বৃহস্পতিবার ওডিশা থেকে বছর বিয়াল্লিশের মহিলাকে গ্রেপ্তার করে কসবা থানার পুলিশ। ধৃতের প্রথম পক্ষের স্বামীর হাওড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শনিবার চোরাই সামগ্রীও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের পর্যবেক্ষণ, রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে প্রতারণাকে পেশা বানিয়ে ফেলেছিলেন মহিলা।ফেসবুকেই অনন্যার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল অধ্যাপকের। ক্রমেই সেই বন্ধুত্ব গড়ায় ফোনালাপে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গত শনিবার অনন্যা ওই অধ্যাপককে জানান, তিনি কলকাতায় এসেছেন, দেখা করতে চান। অধ্যাপক তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। নিজের কলেজেও নিয়ে যান। সোমবার অনন্যা ফের ফোন করে জানান, তিনি অধ্যাপকের বাড়ি আসছেন। একসঙ্গে জলখাবার সারবেন। সেই মতো কসবার সুইনহো লেনে আসেন। সেই সময় ওই অধ্যাপকের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। তিনিও একটি কলেজে পড়ান। অনন্যা জানান, তিনি কফি বানাবেন। সেই কফির সঙ্গেই মাদক জাতীয় কিছু মিশিয়ে অধ্যাপককে খাওয়ান। অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই অধ্যাপক। এর পর তাঁর বাড়ি থেকে দু'টি মোবাইল হ্যান্ডসেট, তিনটি সোনার চেন, চারটি আংটি এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেন অনন্যা। কিন্তু কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলের সূত্রে ওডিশা থেকে ধরা পড়েন মহিলা। তাঁকে জেরা করে জানা যায়, ওই সব জিনিস হাতানোর পর হাওড়ায় প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে সেগুলি রেখে এসেছিলেন তিনি। সেখানে তল্লাশি চালিয়েই মোবাইল, টাকা, গয়না, ক্যামেরা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা।তদন্তকারীদের দাবি, ফেসবুকে এ ভাবেই শিকার ধরতেন মহিলা। নিজেকে ওডিশার নামী আইনজীবী বলে দাবি করতেন। তার পর ফেসবুক-বন্ধুর শহরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অছিলায় টাকা-গয়না হাতিয়ে পালাতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টার্গেট করতেন বয়স্ক লোকেদের। কলকাতায় আর কেউ তাঁর প্রতারণার শিকার হয়েছেন কি না, জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।পুলিশ জানতে পেরেছে, আদতে ওডিশাবাসী ওই মহিলার হাওড়ার এক জনের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক চ্ছিন্ন হয়। তার পর ওডিশার এক জনকে বিয়ে করেন। কিন্তু প্রথম পক্ষের স্বামীর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রাক্তন স্ত্রীর প্রতারণা-কারবার সম্পর্কে ওয়াকিবহল তিনি। তাঁর বর্তমান স্বামীও স্ত্রী-র কীর্তি জানতেন বলে দাবি পুলিশের। ওডিশা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে কসবা থানার অফিসাররা জেনেছেন, দ্বিতীয় স্বামীর ছেলের বিরুদ্ধেও সেখানে চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।
from Eisamay https://ift.tt/2TKdtR8
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন