হিমাদ্রি সরকারথানায় অভিযোগ জানাতে গেলে কি ভয় পান? এক বার থানায় গেলে কি দ্বিতীয় বার ঢোকার ইচ্ছে হবে? পুলিশ কি সব অভিযোগে গুরুত্ব দেয়? কোনও ঘটনায় খবর দিলে পুলিশ কতক্ষণের মধ্যে আসে? অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে কি পুলিশ আমরা-ওরা করে?পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মন বুঝতে বাড়ি-বাড়ি এমন প্রশ্নপত্রেই সমীক্ষা করাতে চলেছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (বিপিআরডি) সমীক্ষার তোড়জোড় ইতিমধ্যেই শুরু করেছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লায়েড ইকনমিক রিসার্চকে (এনসিএইআর) দিয়ে সমীক্ষা করানো হবে ন’মাস ধরে। চলতি মাসেই কাজ শুরুর কথা। বিপিআরডি সূত্রের খবর, গোটা দেশে ১৭৩টি জেলায় দেড় লক্ষ বাড়িতে ঘুরে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবেন বিশেষজ্ঞরা।প্রবীণ পুলিশ আধিকারিক এবং সমাজ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সরকার বা প্রশাসনের মুখ হিসাবে নাগরিকরা যাদের সবচেয়ে বেশি মুখোমুখি হন, তা হল পুলিশ। সে রাস্তায় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণই হোক বা পাড়ার বা বাড়ির গোলমালে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বা জটিল অপরাধের তদন্তই নয়, পুলিশের ভূমিকারও অনেক বদল হয়েছে। তার পরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ ওঠে। তাই নাগরিকরা কেমন পুলিশ চান, ঠিক কোন ভূমিকায় দেখতে চান থানাকে--সরাসরি তাঁদের মুখ থেকেই জানতে চাইছে কেন্দ্র।কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা বিপিআরডি-র প্রাক্তন ডিজি প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘ভারতের মতো দেশে বিভিন্ন জায়গার সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা যেখানে বিভিন্ন, সেখানে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণাও নানা রকম হতে পারে। সমীক্ষা যদি রাজ্যভিত্তিক হয়, তা হলে অবশ্যই ভালো। গোটা দেশের গড় চিত্রে বিশেষ কিছু বোঝা যাবে না।’ তিনি জানান, ২০০৪-এ কলকাতা পুলিশের ১৫০ বছর উপলক্ষে চার দিনের সিম্পোজিয়ামে ছাত্রছাত্রী থেকে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে এ রকমই একটা অনুষ্ঠান হয়েছিল। তাঁরা পুলিশকে কেমন দেখতে চান, জানতে চাওয়া হয়েছিল সবার কাছে। বেশির ভাগের মত ছিল--পুলিশ যেন সত্যিকারের আইনের শাসন চালায় এবং যেন মানবিক মুখ থাকে।এ দেশে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা ভাষায় প্রচুর সিনেমা হয়েছে। তাতে ভালো ও খারাপ, সৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত, কর্তব্যপরায়ণ ও নিষ্ক্রিয়--সব রকম পুলিশেরই ছবি উঠে এসেছে। কিন্তু সাধারণ নাগরিকরা সত্যিই কেমন দেখতে চান পুলিশকে, সেটা পুলিশের মানোন্নয়নে কর্মসূচিতেও কাজে লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিপিআরডি-র এক আধিকারিক জানান, বাস্তবে কোন ধরনের অপরাধের প্রবণতা বেশি, সত্যিই কত সংখ্যক অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুরা নিজেদের নিরাপদ বলে মনে করেন কি না, সার্বিক ভাবে নাগরিকরা এলাকায় পুলিশকে কী ভাবে দেখতে চান--গোটা ছবিটাই তুলে আনতে চাওয়া হচ্ছে। বিদেশে সরকারি উদ্যোগে এই ধরনের সমীক্ষার রেওয়াজ আছে। এ দেশে ‘কমন কজ’, ‘সিএসডিএস’, ‘লোকনীতি’র মতো কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে এমন সমীক্ষার রিপোর্ট গত বছরই প্রকাশিত হয়েছে। তবে সরকারি উদ্যোগে এমন সমীক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত পুলিশকর্তাদের।
from Eisamay https://ift.tt/2F651lc
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন