সুরবেক বিশ্বাসটেন্ডার নিয়ে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল দপ্তরের অন্দরেই। টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান অসন্তোষ প্রকাশ করে চিঠি দিয়ে বিষয়টি দপ্তরের সচিবের গোচরে আনেন। তার জেরে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই মুর্শিদাবাদে আর্সেনিক দূষণমুক্ত বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের দু’টি বিতর্কিত টেন্ডার বাতিল করল জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর। মোট প্রায় ১৮ কোটি টাকার ওই দু’টি টেন্ডার বা দরপত্র নতুন ভাবে ছাড়া হবে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।অভিযোগ ওঠে, টেন্ডারে এমন শর্ত রাখা হয়েছে যে, দপ্তরের তালিকাভুক্ত প্রায় ২০টি সংস্থার মধ্যে একটি মাত্র সংস্থাই কাজের বরাত পাবে এবং অন্য সংস্থাগুলি কার্যত এঁটে উঠতে পারবে না।আর্সেনিক-মুক্ত পানীয় জল প্রকল্পের টেন্ডারে অনিয়মের দূষণ সংক্রান্ত ওই সংবাদ ৭ মার্চ ‘এই সময়’-এ প্রকাশিত হয়।শনিবার জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের সচিব মনোজ পন্থ ‘এই সময়’-কে বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। গণ্ডগোল ধরা পড়া মাত্র ওই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। নতুন ভাবে টেন্ডার হবে।’ রাজ্যের আর্সেনিক টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান কুমারজ্যোতি নাথের মন্তব্য, ‘এর ফলে দপ্তরের স্বচ্ছতাই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল।’সচিবের কথায়, ‘ভুল যে হয়েছিল, সন্দেহ নেই। ভুলটা কেন হল, সেটা দেখা হচ্ছে।’ শুধু ওই দু’টি টেন্ডার নয়, এর আগে আর্সেনিক-মুক্ত পানীয় জল সরবরাহের আরও প্রায় ৫৪ কোটি টাকার টেন্ডারে স্বচ্ছতা ছিল না বলে দপ্তরের অন্দরে অভিযোগ ওঠে। সেই সব টেন্ডারও এখন খতিয়ে দেখছেন দপ্তরের শীর্ষকর্তারা। তাঁদের এক জনের কথায়, ‘টেন্ডারে অনিয়মটা কি নিছক অজ্ঞতাবশত নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সেটাই খতিয়ে দেখছি।’বাতিল হওয়া দু’টি টেন্ডারে (এনআইইটি নম্বর ৮/২০১৮-১৯ এবং এনআইইটি নম্বর ৯/২০১৮-১৯) জল থেকে বিপজ্জনক মাত্রার আর্সেনিক শুষে নেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে শুধু গ্র্যানুলার ফেরিক হাইড্রক্সাইডের উল্লেখ ছিল। প্রথম টেন্ডারটি ১৪ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার, দ্বিতীয়টি ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার। আর্সেনিক শোষণের ২০টি প্রযুক্তি এবং সেই মতো ২০টি সংস্থাকে অনুমোদন দিয়েছে আর্সেনিক টাস্ক ফোর্স। কিন্তু ২০টির মধ্যে মাত্র একটি প্রযুক্তির শর্ত ওই সব টেন্ডারে রাখা হয়। ফলে, জার্মান ওই প্রযুক্তির স্বত্ব যে সংস্থার হাতে আছে, সেই সংস্থাটি ছাড়া অন্য কোনও সংস্থা টেন্ডারে কার্যত অংশ নিতে পারছিল না। ২ মার্চ আর্সেনিক টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান দপ্তরের সচিবকে চিঠি লিখে অসন্তোষ ব্যক্ত করেন। কারণ, একটি মাত্র প্রযুক্তি গ্রাহ্য করার অর্থ প্রকারান্তরে টাস্ক ফোর্সকেই অস্বীকার করা। টেন্ডার বাতিল হওয়ার পর কুমারজ্যোতি নাথ বলছেন, ‘সৎ ভাবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে টেন্ডার হোক, সেই কথাই বরাবর বলে এসেছি। যাতে অনুমোদিত সব সংস্থা টেন্ডারে অংশ নিতে পারে।’
from Eisamay https://ift.tt/2FjqQOv
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন