এই সময়, ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সমস্ত সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন লক্ষ্মীপুজো ঘিরে। সম্প্রীতির এই পুজো আউশগ্রামের শিবদাবাসীর কাছে ঐতিহ্য। শুধু শিবদা নয়, আশপাশের গুসকরা-২ অঞ্চলের আলিগ্রাম ও নওয়াদাতেও ফি বছর লক্ষ্মীপুজো ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠেন বাসিন্দারা। লক্ষ্মীপুজোর বিপুল আয়োজন শারদোৎসবের আনন্দকেও ছাপিয়ে যায় এই সমস্ত গ্রামে। শিবদা গ্রামের অধিকাংশ পরিবার কৃষিজীবী। গ্রামের প্রায় ১৪-১৫টি বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হয়। এছাড়া সমস্ত সম্প্রদায়ের মিলনে অগ্রদূত ক্লাবের লক্ষ্মীপুজো প্রকৃত অর্থে সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। এ বার ৭২ বছরে পা রাখল এই পুজো। ক্লাবের স্থায়ী মন্দিরেই দেবীর পুজো হয়। পুজো ঘিরে তিন-চার দিন ধরে চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রাপালা, কবিগান ও প্রতিযোগিতামূলক নানা খেলা। মেলাও বসে গ্রামে। শনিবার শিবদা গ্রামের গিয়ে দেখা গেল, হিন্দু-মুসলিম সকলে মিলে হাত লাগিয়েছেন পুজোর আয়োজনে। পুজো কমিটির তরফে মোহন কুমার মণ্ডল, অজয়চাঁদ গড়াইরা বলেন, ‘আমাদের বারোয়ারি পুজো কমিটিতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা রয়েছেন। সকলেই চাঁদা তুলে পুজো চালান। এটা গ্রামের রেওয়াজ। এখানে অনেক নামী মুসলিম কবিয়াল কবিগান করে গিয়েছেন। পুজোর শুরু থেকে এখনও কোনও দিন কবিগান বন্ধ হয়নি।’ পুজো কমিটির সদস্য হাসমত আলি বলেন, ‘এখানে দুর্গাপুজোর থেকেও লক্ষ্মীপুজোয় ধুম বেশি। আমাদের বাড়িতেও আত্মীয়রা আসেন। পুজোর ক’দিন সকলে মিলে খুব আনন্দ করি।’ শিবদার পাশে আলিগ্রামের পুজোও বেশ জাঁকজমক। এখানকার কোঁয়ার বাড়িতে লক্ষ্মী প্রতিমার সঙ্গে রয়েছে জয়া-বিজয়ার মূর্তি। তার সঙ্গে রয়েছে ধনদেবতা কুবের ও দেবরাজ ইন্দ্রের মূর্তি। সবক’টি মূর্তিকে একত্রে পুজো করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২০ বছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। পরিবারের সদস্য শান্তিময় কোঁয়ার বলেন, ‘আমাদের গ্রামে পারিবারিক বা বারোয়ারি সমস্ত পুজোতেই সকলে অংশ নেন। আমাদের নিয়ম আছে লক্ষ্মীপুজোর দিন পরিবারের সদস্যদের মাছ ভাত খাওয়ার।’ আলিগ্রামের লাহা বাড়িতে প্রায় ১০৮ বছর ধরে লক্ষ্মীপুজো ও হরিনাম হয়ে আসছে। লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে এখানে তিন দিন হরিনাম সংকীর্তনের আসর বসে। তৃতীয় দিন ধুলোটের সময় প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। ওই দিন প্রায় তিন হাজার গ্রামবাসীকে মহাভোগ খাওয়ানো হয়। পরিবার সদস্য তপন কুমার লাহা বলেন, ‘আগে আমাদের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধু-সন্ন্যাসীদের আগমন ঘটত। তাঁরা এসে লক্ষ্মীপুজোর পরের দিন থেকে এই মন্দিরেই হরিনাম করতেন। সেই থেকে আমাদের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো ও হরিনাম একসঙ্গে হয়ে আসছে। আমাদের লক্ষ্মীর একপাশে থাকে মহাদের ও অন্যপাশে নারায়ণ। পাশাপাশি ১০৮টি মাটির মালসা সাজিয়ে আতপ চালের নৈবেদ্য দেওয়ার রীতি রয়েছে।’ গুসকরা-২ অঞ্চলের নওয়াদা গ্রামের লক্ষ্মীপুজোতেও ধুমধাম হয়। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় এক সময় মণ্ডল পরিবারের জমিদারি ছিল। এই লক্ষ্মীপুজো তাদেরই পারিবারিক পুজো। পরে গ্রামবাসীরা জমিদার পরিবারের সদস্যদের কাছে আব্দার করেন যাতে লক্ষ্মীপুজোর দায়িত্ব তাঁদের দেওয়া হয়। ৮০ বছর আগে মণ্ডলরা গ্রামবাসীদের উপর লক্ষ্মীপুজোর দায়িত্বভার ছেড়ে দেন। সেই থেকে নওয়াদা গ্রামে বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে। পুজো উপলক্ষ্যে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রার আয়োজন করা হয়। আরও পড়ুন:
from Bengali News, Latest Bengali News, Bengali Khabar, Bengali News Headlines, বেঙ্গলি খবর https://ift.tt/2q78SdT
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন