এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: অভিযোগ, ওই তরুণীদের এক জনকে তাঁর পারিবারিক সম্পত্তি থেকে হটাতেও চেষ্টা হচ্ছে। কলকাতার ওই দুই সমকামী তরুণী প্রাণভয়ে এখন এক গোপন আস্তানায়। কলকাতা হাইকোর্টে রুজু হওয়া মামলায় মঙ্গলবার বিচারপতি প্রতীকপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পুলিশি নিরাপত্তা দিতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও দক্ষিণবঙ্গের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু ওই জুটিই নয়, তাঁদের মতো আরও দু’জন তরুণীর সম্পর্ক পরিবার মেনে নেয়নি এবং তাঁদের প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন যুগল। হাইকোর্ট এ দিন ওই যুগলকেও পুলিশি নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পৃথক দু’টি মামলায় ভোগান্তির শিকার দু’টি জুটির দুই আইনজীবী দীপঙ্কর পাল ও ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, ‘আপাতত দু’টি ক্ষেত্রেই আদালত পুলিশকে বলেছে, শুধু ওই দুই যুগলের নিরাপত্তাই নয়, যতদিন না মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততদিন প্রয়োজনে তাঁদের বাড়ির সামনেও নিরাপত্তা দিতে হবে পুলিশকে।’ গ্রীষ্মের ছুটির পর হাইকোর্টে দু’টি মামলার ফের শুনানি হবে। কলকাতার আনন্দপুরের বাসিন্দা তরুণীর সঙ্গে প্রায় এক দশক আগে থেকে বন্ধুত্ব পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা সমবয়সী এক তরুণীর। একটা সময়ের পর তাঁরা উপলব্ধি করেন, শুধু বন্ধুত্ব নয়, তাঁদের এই সম্পর্কে আরও কিছু আছে। কিন্তু সে কথা প্রকাশ হলে যে পরিবার বা সমাজ মেনে নেবে না, সেটা বুঝেছিলেন দু’জনেই। ফলে, সবটাই ছিল গোপনে। কিন্তু গত বছর সুপ্রিম কোর্ট সমকামকে আইনসিদ্ধ বলে রায় দেওয়ার পর তাঁদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। এবং অভিযোগ, তখন থেকেই শুরু হয় পারিবারিক অত্যাচার। আনন্দপুরের সেই তরুণীর বাড়ি তাঁর নামেই মিউটেশন করানো। কিন্তু এই সম্পর্ক সামনে আসার পর থেকে তাঁর মা ও দাদা যথেচ্ছ অত্যাচার শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, ধর্ষণ করে তাঁর পুরুষ প্রীতি জাগিয়ে তোলা হবে, এমন হুমকিও ওই তরুণীকে শুনতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ওই তরুণীর আইনজীবী বলেন, ‘ওই সম্পর্ককে হাতিয়ার করে তাঁকে সম্পত্তি থেকে সরানোরও চেষ্টা হচ্ছে।’ মার্চ মাস থেকে দুই তরুণীর উপরে তাঁদের পরিবারের অত্যাচার চরমে ওঠায় তাঁরা শহর ছেড়ে এক গোপন আস্তানায় এখন ঠাঁই নিয়েছেন। শ্রীরামপুরের বাসিন্দা, ইতিহাসে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণীর সঙ্গে চার বছর আগে আলাপ রিজেন্ট পার্কের মুর অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা, স্নাতক তরুণীর। বছর দেড়েক আগে তাঁরা বুঝতে পারেন, তাঁরা সমপ্রেমী। কিন্তু সেই সম্পর্ক প্রকাশ্যে এলে পরিবার মানবে না, সেটা বুঝে তাঁরা বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। কিন্তু শ্রীরামপুরের তরুণীর বাড়ির লোকজন কিছু একটা টের পান এবং মেয়েকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তখন তিনি শ্রীরামপুরের বাড়ি ছেড়ে মুর অ্যাভিনিউয়ে চলে আসেন। পরে বাড়িতে ফোন করে গোটা ঘটনা জানাতেই শুরু হয় হুমকি। ওই তরুণীর আইনজীবী বলেন, ‘ওই সম্পর্ককে হাতিয়ার করে তাঁকে সম্পত্তি থেকে সরানোরও চেষ্টা হচ্ছে।’ মার্চ মাস থেকে দুই তরুণীর উপরে তাঁদের পরিবারের অত্যাচার চরমে ওঠায় তাঁরা শহর ছেড়ে এক গোপন আস্তানায় এখন ঠাঁই নিয়েছেন।
from Eisamay http://bit.ly/2YViViu
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন