এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র জয়নগরের সব ভোটারের বাড়িতে পৌঁছে যাবে একটি করে গাছের চারা। প্রচারের অঙ্গ হিসেবে শুধু টবে লেখা থাকবে প্রার্থীর নাম। পরিবেশ-বান্ধব প্রচারে এমনই ভেবেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জয়নগর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা মণ্ডল। মঙ্গলবারই দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হয়েছে। রাত পোহাতেই অভিনব প্রচার কৌশল ভেবে ফেলেছেন প্রতিমা। বুধবার তিনি বলেন, 'কম সময়ের মধ্যে সবটা করে উঠতে পারব কি না, জানি না। তবে এই পদ্ধতিতেই বাড়ি-বাড়ি প্রচার সারতে চাইছি।'এ বারের নির্বাচনে প্লাস্টিকের সামগ্রীর পরিবর্তে পরিবেশ-বান্ধব সামগ্রীর মাধ্যমে প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আবেদন জানিয়েছে এই সময়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত বিকল্প ব্যবস্থায় প্রচারের পথ খুঁজতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। দু'দশক ধরে ফ্লেক্স, প্লাস্টিক হোর্ডিং, ব্যানারে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়া কাপড়ের ব্যানার ফেরাতে চাইছেন প্রতিমাও। তিনি বলেন, 'কাপড়ের ব্যানার, কাগজের পোস্টারেই প্রচার করতে চাইছি। যাঁরা এই কাজ করেন, তাঁদের খোঁজ শুরু করেছি।'একই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত কেন্দ্রেও। এই কেন্দ্রের অন্তর্গত মধ্যমগ্রাম পুর-এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে ভালো কাজ করেছে স্থানীয় পুরসভা। মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক তথা পুর-চেয়ারম্যান রথীন ঘোষ বলেন, 'প্লাস্টিকের ফ্লেক্স, ব্যানারের বদলে কাপড় ও কাগজের সামগ্রীতে প্রচারেই জোর দেব।' হাওড়ার বিজেপির যুব নেতা ইমেশ রাই বলেন, 'সম্প্রতি কাপড় এবং প্লাস্টিকের মিশ্রণে ফ্লেক্স জাতীয় সামগ্রী তৈরি হয়েছে। ওই পরিবেশ-বান্ধব সামগ্রীর মাধ্যমে প্রচার করা যায় কি না, খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে জোগান এখনও পর্যাপ্ত নয়। আর কী সামগ্রী ব্যবহার করা যায়, ভাবা হচ্ছে।'প্লাস্টিক, থার্মোকল বর্জনে সারা বছর ভালো কাজ করেছে হুগলির কয়েকটি পুরসভাও। ভোটেও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সচেতন জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব। হুগলি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রত্মা দে নাগ বলেন, 'মানুষের কাছে যেমন ভোট চাইব, তেমনই প্লাস্টিক-মুক্ত এলাকা গড়ারও আবেদন জানাব। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহার করা যায় প্রচারে, তা ঠিক হবে।' জেলা তৃণমূলের যুগ্ম কার্যকরী সভাপতি প্রবীর ঘোষাল বলেন, 'ভোটের প্রচার প্লাস্টিক-মুক্ত করতে সর্বস্তরেই আবেদন জানাব।' জেলা তৃণমূল সভাপতি তপন দাশগুপ্তর প্রতিশ্রুতি, 'দলীয় পতাকা কাপড়েই তৈরি হবে। প্লাস্টিকের ফ্লেক্স-হোডিংয়ের পরিবর্তে দেওয়াল লিখনে জোর দেওয়া হবে।' শ্রীরামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও আশ্বাস, 'প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলবে। প্রচারে কাগজ, বোর্ড ব্যবহার করা হবে।'ফ্লেক্স, ব্যানারে প্লাস্টিকের ব্যবহার এখনই পুরোপুরি বন্ধ না-করতে পারলেও অন্তত কাপড়ের পতাকা, কাগজের চেন ফ্ল্যাগের ব্যবহার বাড়ানোর আশ্বাস মিলতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে। তৃণমূল হাওড়া গ্রামীণ সভাপতি পুলক রায় বলেন, 'কাগজের পতাকার চেন টাঙানোতেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।' সিপিএমের হাওড়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যা অপর্ণা পুরকাইতও বলেন, 'কাগজের চেন ফ্ল্যাগে প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছে দল।' বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি অনুপম মল্লিকেরও বক্তব্য, 'প্রয়োজনে চটের ফ্লেক্স টাঙানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।'
from Eisamay https://ift.tt/2UB6kiC
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন