অনির্বাণ ঘোষশিয়রে লোকসভা ভোট। ফলে আক্ষরিক অর্থেই ঘুম ছুটেছে রাজনীতির কুশীলবদের। চিকিৎসকরা বলছেন, এখন দেখার, ভোটের ময়দানে তা কতটা প্রাণশক্তি নিংড়ে নেয় নেতানেত্রীদের। বিশেষ করে যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন, তাঁদের নিয়ম করে দিনে সাত ঘণ্টা ঘুমোনোর আর জো নেই আগামী দু-আড়াই মাস। তাঁদের সিংহভাগই বিনিদ্র রজনীর সঙ্গে মানিয়ে নেবেন এই ক'টা দিন। এ দিকে আগামী শুক্রবারই বিশ্ব ঘুম দিবস। তার প্রাক্কালে চিকিৎসকরা বলছেন, দেড়-দু'মাসের এই অনিয়মকে কেউ লঘু করে দেখলে মস্ত ভুল হবে। বরং রুটিনের এই বদল 'স্লিপ ডিজঅর্ডার'-এর জন্ম দিতে পারে, তার জেরে স্থায়ী মাসুল দিতে হবে জীবনে। অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে প্রেশার-সুগার-কোলেস্টেরলের সমস্যার পাশাপাশি স্মৃতিভ্রংশের সম্পর্কও প্রতিষ্ঠিত সত্য। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঘুমের গণ্ডগোল থেকেই শরীরের জৈবঘড়ির বারোটা বাজে৷ রক্তচাপ অনিয়মিত হয়। ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, মাইগ্রেন, স্মৃতিভ্রংশ, হার্ট অ্যাটাক, বিপাকজনিত গুচ্ছ ব্যামোর নাটের গুরু ঘুমের সমস্যাই৷ রোজকার ক্লান্তি, শরীর ম্যাজম্যাজ করা তো আছেই। ঘুমের ঘাটতিতে 'রিফ্রেশ' হয় শারীরিক সিস্টেমটাই। চিকিৎসক অরূপ হালদার বলছেন, 'এই দেড় মাসের ঘুমের ব্যাঘাত আদতে ১৫ বছর বয়স বাড়ার সামিল। প্রেশার-সুগার তো বাড়বেই। মেজাজ হবে খিটখিটে, কমে যাবে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও।' কিন্তু এত কথা কানে তুলছে কে! মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী, দলীয় জেলা সভাপতি-সহ রাজ্য-রাজনীতিতে শাসকদলের অনেক রথী-মহারথীরই ঘুমের প্রবল সমস্যা রয়েছে। স্লিপ ডিজঅর্ডারের রোগী। কারও রয়েছে অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার (ওএসএ) মতো সমস্যাও, যার জেরে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। কারও আবার রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জেরে অনিদ্রার সমস্যা। বাদবাকি বেশির ভাগই পর্যাপ্ত ঘুমোন না স্রেফ সময়ের অভাবে। বিশেষজ্ঞরা যদিও বলছেন, আখেরে কু-প্রভাবটা সবার ক্ষেত্রেই অভিন্ন। তা-ও আমজনতার মতোই জনপ্রতিনিধিদেরও টনক নড়ে না বলে আক্ষেপ ঘুম বিশারদদের। মঙ্গলবারই লোকসভা ভোটের প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল। এর মধ্যে রয়েছেন মেদিনীপুরের প্রার্থী মানস ভুঁইঞা। নিজে পেশায় চিকিৎসক হয়েও অবশ্য তিনি যে দৈনিক সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি ঘুমোতে পারেন না, অকপটেই জানাচ্ছেন। তবে মানসের দাবি, 'পুরোটাই অভ্যাসের ব্যাপার। আমার কোনও সমস্যা হয় না। আগামী মাস দেড়েক আরওই কম ঘুমোব।' মানসের তুলনায় আধ-এক ঘণ্টা বেশি ঘুমোন রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী তথা বর্তমান সাংসদ মহম্মদ সেলিম। তাঁর কথায়, 'অনেক আগে আট ঘণ্টা ঘুমোতাম। কিন্তু বহু দিন হল পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার ঘুমেই কাজ চলে যায়। ভোটের সময়েও তার হেরফের হবে বলে মনে হয় না।' তবে পর্যাপ্ত ঘুম যে দরকার, তা অস্বীকার করছেন না তিনি। পর্যাপ্ত মানে ঠিক কতটা? স্লিপ মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৌরভ দাসের কথায়, 'রোজ অন্তত সাত থেকে ন'ঘণ্টা ঘুম জরুরি। এবং তা যখন-তখন নয়, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে।' এ নিয়ম আজও অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলায় বিরল ব্যতিক্রম রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রবীণতম সদস্য সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এ বার ভোটে বাঁকুড়া কেন্দ্রের প্রার্থী সুব্রত বলছেন, 'ঘুম নিয়ে কখনও সমঝোতা করি না। রোজ রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রায় আট ঘণ্টা নিয়ম করে ঘুমোই। তার পর সকালে যোগব্যায়াম করি। তবে ভোটের সময়ে এ সব মানা সম্ভব হয় না। ভোট মিটলে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।' দমদমের সাংসদ তথা আসন্ন ভোটে এই কেন্দ্রেরই প্রার্থী সৌগত রায়ও ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন। তবে সব সময় তা মেনে চলা সম্ভব হয় না তাঁর পক্ষেও। সৌগত বলেন, 'সুযোগ পেলে রাতে ঘণ্টা সাতেকের ঘুম দেওয়ার চেষ্টায় খামতি দিই না কখনও। যখন সময় কম, তখন ঘুমোইও কম। এত বছরে এই চাপটুকু নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।'
from Eisamay https://ift.tt/2Ci2NyE
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন