এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরত জাহানকে নিয়ে হইচইয়ের পাশে বাংলা সিনেমার বর্তমান সুপারস্টার দেব কি চর্চায় আপাতত একটু পিছনে পড়ে গেলেন? তাঁর সঙ্গে সঙ্গে শতাব্দী রায় ও মুনমুন সেন?বাংলার তিন কেন্দ্রে এই তিন অভিনেতা-অভিনেত্রী সাংসদের কাজের পরিসংখ্যানের খোঁজ নিতে গিয়ে বোঝা গেল, মোটেই নয়। আলোচনা একই রকম থাকছে তাঁদের নিয়ে। তিন জনের তিন রকম স্টাইল।তিন জনের মধ্যে শতাব্দী এক জায়গায় এগিয়ে। দু'বার সাংসদ হয়ে তৃতীয়বারের টিকিট পেয়েছেন জেলা রাজনীতিকে থামিয়ে। তাঁর কথাতেও আত্মবিশ্বাস। বললেন, 'বীরভূমের মানুষ আমাকে আগেও ভালোবেসেছে। আবারও বাসবে। এবার তাই জয়ী হয়ে এই সব অসম্পূর্ণ কাজ পূরণ করতে চাই।' পরের সংযোজন, 'এমন ভাবে রটেছিল যে আমার আসন পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে। বহু ফোন এসেছে বীরভূম থেকে। কর্মী, সমর্থক, নেতা নেত্রী সকলেই চেয়েছেন আমি প্রার্থী হই। তবে গত দেড় মাস আগে স্বয়ং দলনেত্রী ফোন করে বলেছিলেন, তোমাকে বীরভূম থেকেই দাঁড়াতে হবে। আমার প্রতি দিদির আগাধ স্নেহ। বীরভূমের মানুষের ভালোবাসা আছে। আমি আবার বীরভূম মানুষের কাজ করতে চাই। কাজ করব দলের জন্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। বীরভূমের মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে। তাই আমি আবার জিতব।'দেব কেমন কাজ করেছেন? ভোটাররা কি সন্তুষ্ট? যথারীতি দু'রকম মত উঠে আসছে ঘাটাল এলাকায়। পিংলা বিধানসভা এলাকার শিক্ষিকা চন্দনা মাইতি বলেন, 'দেব ৫ বছরে কী কাজ করেছে জানি না। সে বিষয়ে যেতেও চাইনা। তবে ওই ধরনের মানুষদের রাজনীতিতে না আশায় ভালো। কারন বর্তমানে রাজনীতি মানেই নোংরামো'। কেশপুরের শেখ হাফিজুর রহমানের কথায়, 'দেব কেশপুরের ছেলে। কেশপুর এলাকায় বিশাল উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ, যা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ার মতো দেখতে পায়নি'।সবংয়ের কৃষক কার্তিক মান্নার আবার অন্য কথা, 'অন্যান্য সাংসদদের থেকে ও অনেক ভালো। কেউ চোর বলতে পারেনি'। দাসপুরের কলেজ ছাত্রী অহনা সামন্ত অকপট, 'কী করেছে, কী করেনি জানি না। দেব আবার প্রার্থী হয়েছেন আমি খুশি। আমরা কম বয়সী ছেলে মেয়েরা দেবের মতো সাংসদ চাই'।ঘাটালের ব্যবসায়ী সৌমেন পালুই কী বললেন? 'কিছু কাজ হয়তো করেছেন। তবে বিরাট কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ আমার নজরে নেই। তবে বন্যা বা কোন কিছু উদ্বোধনের সময় দেখা গিয়েছে'। ডেবরার স্কুল শিক্ষক নিবারণ রায়ের সাফ কথা, 'সাংসদ দেব অনেক কাজ করেছে শুনেছি। উনি তো রাজনৈতিকক নেতা নন। ফলে নেতাদের সাথে মারপ্যাঁচে কতটা পারবেন'।মুনমুন পাল্টেছেন তাঁর আসন। বাঁকুড়ায় দাঁড়ালে হয়তো অসন্তোষের সামনেই পড়তেন। যদিও সাংসদ কোটার ১০০ শতাংশ অর্থ খরচ করেছেন তিনি। দেব বিপক্ষ প্রার্থীকে প্রণাম করে বা সৌজন্য বার্তা পাঠিয়ে চমকে দেন, মুনমুনের সে ব্যাপার নেই। তিনি অনেক আড়ালে থাকেন।বাঁকুড়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক, শিল্পপতি মধুসূদন দরিপা বলেন, 'তাঁর হাত ধরে যা উন্নয়ন দরকার ছিল, তা হয়নি। সেক্ষেত্রে তাঁর ৮০ শতাংশ ব্যর্থতা। বাঁকুড়া শহরের কাটজুড়িডাঙায় একটি ফ্লাই ওভার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি। সেটা হয়নি। রেলের ক্ষেত্রেও তিনি কোনও অবদান রেখে যেতে পারলেন না। আমরা শিল্পপতিরা প্রথম দিকে তার দেখাই পেতাম না। শেষের ২ বছর কিছুটা সময় দিয়েছেন। জেলার পোল্ট্রি শিল্পের প্রসার ও আধুনিকীকরণ নিয়ে আমরা কথা বলায় সাংসদ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন প্রথমে। পরে আমরা আর তার কাছ থেকে কোনও রকম সাড়া পাইনি। তবে এবারের প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের উপর ভরসা আছে।' জেলার খাতড়া শহরের বাসিন্দা, পুরুলিয়া সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক প্রনব হাজরা বলেন, 'মুনমুন সেন সেলিব্রিটি হওয়ায় একদিকে যেমন ইতিবাচক দিক আমরা লক্ষ্য করেছি, আবার নেতিবাচক দিকও ছিল। তবে উন্নয়নের কাজ করেছেন। টাকাও সব খরচ করেছেন। তাই ব্যর্থতা বলা যাবেনা।আর এম পি কে হাতের কাছে পাওয়া যায়না এই যুক্তিও ঠিক নয়। কোনও কাজের জন্য তাকে প্রয়োজন হলে এলাকার তৃণমূল স্তরের পার্টির মাধ্যমেই আসতে হবে।'বীরভূমের শহর ও গ্রামে বরং শতাব্দীর পরিচিতি বেশি। অনেকবার গিয়েছেন বিভিন্ন গ্রামে। রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়ে টক্কর দিয়েছেন অনুব্রতর মতো জেলা নেতাদের সঙ্গে। দেব, মুনমুন কি এ বার শতাব্দী-স্টাইলে হাঁটবেন?
from Eisamay https://ift.tt/2TJsXFe
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন