মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্যদু'বছরে ২৪টি সফল বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বিশেষ বরাদ্দ পেল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইনস্টিটিউট অফ হেমাটোলজি অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন। খরচসাপেক্ষ এই চিকিৎসা যাতে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তাই এক কোটিরও বেশি টাকা প্রতিস্থাপন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে মেডিক্যালকে। এতে উজ্জীবিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্যাডাভেরিক প্রতিস্থাপনের খরচ জন্য পৃথক বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন। হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, 'একমাত্র আমাদের প্রতিষ্ঠানেই দু'ধরনের বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়। গত দু'বছরে ২৪টি সফল বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করেছে আমাদের হাসপাতাল। স্বাস্থ্য দপ্তরের থেকে তাই ফেব্রুয়ারিতে আমাদের এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে যেহেতু ইতিমধ্যে দু'টি সফল ক্যাডাভেরিক হার্ট প্রতিস্থাপনও হয়েছে, তাই ওই প্রতিস্থাপনের জন্য আলাদা বরাদ্দ চাইছি আমরা।' দুরারোগ্য রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্তদের সম্পূর্ণ নিরাময়ের জন্য বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন অনেক সময়েই শেষ উপায় হয়ে দাঁড়ায়। তবে বহুমূল্য এই চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ থাকে না অনেকেরই। তাঁদের কাছে আশার আলো এনআরএস এবং কলকাতা মেডিক্যাল। এর মধ্যে কলকাতা মেডিক্যালেই অটোলোগাস এবং অ্যালোজেনিক দুই ধরনেরই বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে, সমস্যাটা দেখা দেয় অন্যত্র। 'সরকারি পরিকাঠামোয় প্রতিস্থাপন করা হলেও এক একটি প্রতিস্থাপনে কমপক্ষে ১০-১২ লক্ষ টাকার ওষুধ লাগে। এই টাকায় অন্য রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা যায়। তাই অনেক ক্ষেত্রে এই প্রতিস্থাপন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।তাই, হাসপাতালের বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে পৃথক বরাদ্দ চায় মেডিক্যাল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আপাতত প্রতিস্থাপন খাতে এক কোটির বেশি টাকা মিলেছে। মার্চের মধ্যে এই টাকা খরচ করতে হবে। ইনস্টিটিউট অফ হেমাটোলজি অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের অধিকর্তা মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য জানান, 'বরাদ্দ টাকা শুধুমাত্র বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের জন্যই খরচ করা যাবে, এটা আমাদের রোগীদের জন্য খুবই আশার খবর। আমরা এত দিন প্রতি মাসে একটি করে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করতাম। চেষ্টা করছি, সেটাকে দু'টিতে নিয়ে যাওয়ার।' এখন রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে মরণোত্তর প্রতিস্থাপন শুরু হয়েছে। সেই প্রতিস্থাপনের খরচ জোগাতে হাসপাতালের ওষুধের বরাদ্দ থেকে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এই পদক্ষেপের পর এখন এসএসকেএমের মতো হাসপাতালও প্রতিস্থাপনের জন্য পৃথক বরাদ্দ চাওয়ার কথা ভাবছে। এমনটাই জানিয়েছেন হাসপাতালের প্রশাসকরা।
from Eisamay https://ift.tt/2TFkxP7
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন