অমিত সিং দেও, বান্দোয়ানএকঝাঁক কুকুর তাড়া করেছে হরিণকে। প্রাণভয়ে ছুটছে হরিণ। এমন দৃশ্য কতটা মর্মান্তিক হতে পারে? সাক্ষী রইল বান্দোয়ানের নতুনডি জঙ্গল। তিনটি চিতলের হরিণের মৃত্যু হল কুকুরের আক্রমণে।বন দপ্তরের ভুলে প্রাণ দিয়ে মাসুল গুনতে হচ্ছে মৃগকুলকে। সদ্য চিড়িয়াখানা থেকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হরিণদের ওপর লাগাতার কুকুর আক্রমণ করছে। যার ফলে মৃত্যু হয়েছে তিনটি চিতল হরিণের। জখম হয়েছে তিনটি। আর এই ঘটনার পর বন দপ্তরকে দুষছেন গ্রামবাসী ও পশুপ্রেমীরা। বন দপ্তরের কর্মী সঙ্কট ও পরিকাঠামোর অভাব। তবু এই জঙ্গলে হরিণগুলো ছাড়া হল কেন, উঠছে প্রশ্ন। টানা এক বছর ভাবনাচিন্তার পরে গত রবিবার ওয়েস্ট বেঙ্গল জু অথরিটির ছাড়পত্রের পর পুরুলিয়ার সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানার এনক্লোজার থেকে মিলিয়ে মোট ৩০টি হরিণকে ছাড়া হয়। কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের বান্দোয়ানের যমুনা বনাঞ্চলের কুইলাপাল বিটের নতুনডি জঙ্গলে। দীর্ঘ দিন মানুষ ঘেঁষা চিড়িয়াখানায় নির্দিষ্ট একটি এলাকায় তারের পাঁচিল ঘেরা জীবনযাপন করা এই মৃগকুল সবুজ জঙ্গলে নতুন ঘর পায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই পুরোনো অভ্যাস মতোই তারা দল বেঁধে ঘুরত। কখনও গভীর জঙ্গলে, তো কখনও গ্রাম লাগোয়া ঝোপঝাড়ে। ২টি বাচ্চা-সহ ১৩টি পুরুষ ও ১৫টি মেয়ে হরিণ ছিল।গত সোমবার জঙ্গলে একটি ছোট জলাশয়ের পাশে জখম অবস্থায় এক মেয়ে হরিণকে দেখতে পান গ্রামবাসীরা। চিকিৎসক সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে গিয়ে বন দপ্তরের কর্মীরা দেখেন ওই হরিণটি জখম হয়ে পড়েছে। সেখানেই তাকে চিকিৎসা করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পর দিন জঙ্গল লাগোয়া চালনিয়া গ্রামের অদূরে একটি জলাশয়ে একটি হরিণকে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীরা সেটিকে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু লক্ষ্য অবিচল রেখে সেটিকেই ফের হামলা চালায় ৭ থেকে ৮টি শিকারি কুকুরের একটি দল। জখম ওই পুরুষ হরিণটিকে গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে বনদফতরের কার্যালয়ে এনে দেন। গোটা শরীরে কুকুরের গভীর আঁচড়ের ক্ষত থাকায় সেটিকে রাতে কার্যালয়ে রেখে বুধবার সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এ দিন গ্রামবাসীরা জানান, সকালে জঙ্গল লাগোয়া পাহাড়পুর ও নতুনডি গ্রামে দু'টি মাদি হরিণ কুকুরের কামড়ে মৃত অবস্থায় জঙ্গল পড়ে রয়েছে। পরে আর একটি হরিণের দেহ পাওয়া যায়।গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ। প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) রবিকান্ত সিনহা বলেন, 'এখানে হরিণ ছাড়ার জন্য আমরা এক বছর ধরে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছি। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে যে রিপোর্ট এসেছিল তাতে ওই এলাকায় কুকুরের গতিবিধির কোনও উল্লেখ ছিল না। এটা স্থানীয় আধিকারিকদের দেখতে হবে।' বন দপ্তরের যমুনা রেঞ্জের আধিকারিক হীরক সিন্হা বলেন, 'আমাদের কর্মীরা বনসুরক্ষা কর্মীদের সঙ্গে নজরদারি চালাব।'
from Eisamay https://ift.tt/2CnrfP3
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন