বরিশালের টাইমস, জাতীয়, রাজনীতি, অর্থনীতি, সারা বাংলা, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, চাকরি, বিনোদন, সাতসতেরো, ক্যাম্পাস, অন্যান্য

Breaking

মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০১৯

প্রথম মামলায় ইতিহাসে শিপ্রা, নারায়ণরা

অমিত চক্রবর্তী, জলপাইগুড়িউত্তরবঙ্গে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ তৈরির জন্য চার দশকের লড়াইয়ের কথা তাঁর জানা। জলপাইগুড়িরই মেয়ে তিনি। বর্তমানে অবশ্য গড়িয়ার বাসিন্দা। ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছে তিনি আপ্লুত। কারণ, ইতিহাসে রয়ে গেলেন। তিনি শিপ্রা চক্রবর্তী। সোমবার জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরুর দিনে প্রথম যে মামলাটি দায়ের হল, সেটি তাঁরই। শিপ্রার কথায়, ‘দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সার্কিট বেঞ্চ পাওয়া গিয়েছে। আর সেখানে প্রথম যে মামলা দায়ের হল, তাতে নিজের নাম জড়িয়ে গেল ভেবে খুব ভালো লাগছে।’জলপাইগুড়ির হাকিমপাড়ায় তাঁর বাড়ি নিয়ে দীর্ঘ বিবাদ ছিল। জেলা আদালতে জিতেছেন। পাছে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সার্কিট বেঞ্চ থেকে তাঁর বিরোধীরা একপাক্ষিক কোনও নির্দেশ বের করেন, সেই আশঙ্কায় এ দিন ক্যাভিয়েট করেছেন তিনি। তাঁর আইনজীবী পার্থ চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম মামলাকারী হিসেবে কোথাও একটা ইতিহাসে নাম জড়িয়ে যাওয়ার ভালো লাগা তো আছেই। পাশাপাশি, গর্ব হচ্ছে সার্কিট বেঞ্চ নিয়ে লড়াইয়ের এক জন সৈনিক হিসেবেও।’ময়নাগুড়ির কৃষক নারায়ণ মণ্ডলও এ দিন ক্যাভিয়েট করেছেন আইনজীবী দেবারতি ভৌমিকের মাধ্যমে। সার্কিট বেঞ্চ চালুর প্রথম দিনই মামলা দায়ের করে ইতিহাসে নাম তোলা বা গর্বের থেকেও আদালতের এই সুবিধাতেই বেশি খুশি তিনি। তাঁর কথায়, ‘এত দিন হাইকোর্ট মানেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতায় যেতে হত। কিন্তু এখন ঘরের কাছেই হাইকোর্ট এসে যাওয়ায় অনেকেরই খুব উপকার হল।’প্রথম দিন ৫টি ক্যাভিয়েট-সহ মোট ২২টি মামলা দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে আছে খোরপোশ, হাইটেনশন লাইনের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি থেকে শুরু করে জামিনের আবেদনও। সার্কিট বেঞ্চ শুরুর দিনে এজলাসে বসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার আইনজীবীদের বলেন, ‘কোনও জাদুবলে রাতারাতি সব কিছু স্বাভাবিক করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বার এবং বেঞ্চের সমন্বয়েই বেঞ্চের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, আন্দামানে পোর্ট ব্লেয়ার সার্কিট বেঞ্চের মডেল অনুসরণেই জলপাইগুড়ি বেঞ্চের কাজ আপাতত চলবে। প্রসঙ্গত, ১৯৬১-র ৭ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের অধীনে প্রথম সার্কিট বেঞ্চ চালু হয় ওই কেন্দ্রশাসিত দ্বীপপুঞ্জে। শুরু থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত বছরে এক বার করে বসত সার্কিট বেঞ্চ। পরবর্তীতে মামলা-বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে বেঞ্চের কাজের সময়ও বেড়েছে। মার্চ, সেপ্টেম্বর এবং ডিসেম্বরে বসত বেঞ্চ। ২০০০ থেকে বসছে নিয়মিত। হাইকোর্টের শীর্ষকর্তারা বলছেন, উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা থেকে এখন কলকাতাতেও মামলা দায়ের করা যাবে। পরে সেই মামলা সার্কিট বেঞ্চে পাঠিয়ে শুনানি করবে হাইকোর্ট।

from Eisamay https://ift.tt/2CiQXnY

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Pages