সুগত বসুআপনাদের কাছেই কেন্দ্রের এই ভাবনাচিন্তার কথা শুনলাম। এই সিদ্ধান্ত যদি নেওয়া হয়, তা হলে তা খুবই সঠিক এবং গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হবে। নেতাজি তো শুধু অখণ্ড ভারতের প্রথম প্রভিশন্যাল গভর্নমেন্ট বা অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি তার হেড অফ স্টেট বা রাষ্ট্রপ্রধানও ছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় নানা জায়গাতেই, যেমন কাঁথি-তমলুকে, ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় স্বাধীন সরকারের ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৩-এর ২১ অক্টোবর নেতাজি সিঙ্গাপুরে যে সরকার গঠন করেছিলেন, ন’টি রাষ্ট্র তাকে স্বীকৃতিদান করেছিল।কেন্দ্রীয় সরকার যদি সত্যিই এই উদ্যোগ নিয়ে থাকে, তা হলে বলব এই স্বীকৃতি নেতাজির প্রাপ্য। আমি সম্প্রতি আবার জাপানে গিয়েছিলাম। সেখানেও দেখলাম, নেতাজিকে এখন শুধু ভারতবর্ষের নেতা নয়, এশিয়ার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু তার সঙ্গে এটাও বলব, নেতাজি যখন অস্থায়ী সরকার গঠনের ঘোষণা করেছিলেন, তখন উনি খুব স্পষ্ট ভাবে বলেই দিয়েছিলেন যে, এই অস্থায়ী সরকার শুধুমাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কাজ করবে। স্বাধীনতা লাভের পর কোন সরকার ক্ষমতায় আসবে, তা যে দেশের জনগণ নির্ধারণ করবেন, তা নেতাজি সুস্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছিলেন। এটি অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত।সঙ্গে আমি এটাও বলব যে, নেতাজির এই অস্থায়ী সরকারে মুসলমান-শিখ-খ্রিস্টানের মতো সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব কিছুটা বেশি মাত্রাতেই ছিল। নেতাজিকে যদি সত্যি মর্যাদা দিতে হয়, তা হলে শুধু তাঁর স্মৃতিতে দিবস উদ্যাপন করলেই হবে না, তাঁর মতাদর্শ গ্রহণ করে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ঐক্যসাধন করতে হবে।শুনলাম, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ‘সব কা বিশ্বাস’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন। এ ক্ষেত্রে বলব যে গান্ধীজি এবং নেতাজিই একমাত্র এই ‘সব কা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পেরেছিলেন। ‘সব কা বিশ্বাস’ অর্জন করতে গেলে তাঁদের ভাবাদর্শ অনুসরণ করা উচিত। দেখতে হবে, নেতাজিকে মর্যাদা জানাতে গিয়ে তা যেন তাঁকে নিয়ে দখলদারি না-হয়ে যায়।(লেখক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্ডিনার অধ্যাপক)(টেলিফোনে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখিত)
from Eisamay http://bit.ly/2MaHbeT
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন