ভাস্বতী ঘোষ ও জয় সাহা‘হাতটা একবার ধরব... একবার...।’তাঁকে আগে কখনও সামনাসামনি দেখেননি বারুইপুরের মকবুল। হুডখোলা গাড়িতে চেপে তিনি আসছেন দেখে মঙ্গলবার ফরিদপুর বাজারের মুখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন দেহাতি ভদ্রলোক। নায়িকা আর মকবুলের মধ্যে যখন এক হাতের ফারাক, সাহস করে হাতটা বাড়িয়েই দিলেন তাঁর দিকে। হুডখোলা থেকে কিছুটা ঝুঁকে ভিড় সরিয়ে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীও পাল্টা সৌজন্যে হাত বাড়িয়ে দিলেন মকবুলের দিকে।প্রচারের সময় হাত মেলানোর জন্য ধেয়ে আসা অগুনতি নাম না জানা মানুষের ইচ্ছেকে সাধ্যমতো সম্মান জানাচ্ছেন মিমি। অবশ্য তাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন। মঙ্গলবার সাত-সকালে প্রচারের বেরোনোর আগে বলছিলেন, ‘আমার দু’হাত ছড়ে গিয়েছে। হাত মেলাতে মানুষের এত উৎসাহ... কী বলব!’ এই ছড়ে যাওয়াটাকে অবশ্য মিমি নিজেই বলেছেন, ‘টোকেন অফ লাভ’।প্রচারে মিমির এটাই যেন ইউএসপি। প্রতি মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে রাখা সিনেমার মায়াবী জগতের বেষ্টনী পেরিয়ে তিনি মানুষের কাছে পৌঁছনোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রচারের মাঝে তাই কখনও গাড়ি থেকে নেমে পড়ছেন সুন্দর বাগান দেখে। মার্চের দাবদাহে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিচ্ছেন। কথা বলছেন আশপাশের লোকজনের সঙ্গে। আবার কখনও পোষ্য দেখে সটান ঢুকে পড়ছেন বাড়ির উঠোনে। কেউ হাত মিলিয়েই ক্ষান্ত, কেউ আব্দার করছেন সেলফির জন্য। প্রায় ২০ কিলোমিটার যাত্রা পথে প্রচারের ফাঁকে উড়ে আসা গোলাপ নিজেই ছুড়ে দিচ্ছেন ভিড়ে দাঁড়ানো কিশোরের দিকে। লুফে নিচ্ছেন ফ্লায়িং কিস।মঙ্গলবার সকালে-বিকেলে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের নানা প্রান্তে রোড শো করেন তিনি। উৎসাহী জনতার হাত থেকে প্রার্থীকে বাঁচাতে নিরাপত্তারক্ষীরা কাউকে ধাক্কা দিলে মিমি গাড়ি থেকেই বলে ওঠেন, ‘ওরে ধাক্কা দিস না। লেগে যাবে... লেগে যাবে।’ কর্মীদের শান্ত রাখতে হুডখোলার উপরে মাইক ধরে নিয়েছেন নিজেই। বারবার বলেছেন, ‘শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। আস্তে আস্তে এগিয়ে যান। লাইন করে এগোবেন।’ জনতার উন্মাদনা দেখে এক সময় নেমেই পড়েন রাস্তায়। বলয় ভেঙে মিশে যান ভিড়ের অন্দরে।পাশাপাশি পোশাকেও রং তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা তাঁর। খোলা চুলে ফুলহাতা গোলাপী সালোয়াড়-চুড়িদার। বিকেলে আবার সাদা রঙের কুর্তি, পাজামা। মিমির পোষ্য চিকু তাঁর খুবই আদরের। ছেলে বলে ডাকেন। এ দিনের রোড শো-এ হুড খোলা জিপ থেকে নেমে আদর করে দেন স্থানীয় এক পরিবারের পোষ্যকে। যাওয়ার আগে বলেন, ‘খুব গরম পড়ছে তো, ওদের একটু দেখে রাখবেন।’ প্রচারের গাড়ি যত এগিয়েছে, ততই গ্রামের মানুষদের উদ্দেশে বার বার হুডখোলার উপর থেকে প্রার্থী মিমি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘ভালো আছ?’, ‘কাকা নমস্কার’, ‘ও দিদি আজ কী রান্না হল?’কাঠফাটা রোদে হুডখোলা জিপে দাঁড়িয়ে থাকা প্রার্থী মিমি যে পর্দার নায়িকার চেয়ে আলাদা, আটপৌরে আর পাঁচ জনের মতো, সুযোগ পেলেই সে সব ধরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। এ ক’দিনে বদলে গিয়েছে অনেক কিছু। খুব রাতে ঘুমোতে যাওয়া মানুষটা তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়ছেন। বেলা করে ওঠার অভ্যেস ছেড়ে ভোর ভোর বিছানা ছেড়ে তৈরি হয়ে নিতে হচ্ছে। প্রবল গরমে ঘনঘন ওআরএস খাচ্ছেন। ঘাম মুছে নিচ্ছেন মলমলে। এখন কি মনে হচ্ছে, প্রার্থী না হলেই ভালো হত। অন্তত এই কষ্টটুকু পেতে হত না? মিমির বক্তব্য, ‘শুটিংয়ের সময়ও অনেক গরমে কাজ করতে হয়। তাই অভ্যেস আছে। তবে এটা বলতে পারি, কোনও সানস্ক্রিনই আমাকে আর বাঁচাতে পারবে না।’ অবশ্য চোখ বাঁচাতে দু’বেলাই ছিল রে ব্যানের রোদ চশমা। নায়িকার মতে, এই রাজনীতির প্রাথমিক পাঠ তিনি নিয়েছেন স্টেজ শো থেকে। তাঁর কথায়, ‘এতদিন মানুষের মাঝে গিয়েছি স্টেজ শো করতে। কোনও দায়িত্ব নিয়ে হয়নি। কিন্তু মানুষের পালসটা বুঝেছি সেখানে। যদি নির্বাচিত হই, তাহলে দায়িত্ব নিতে হবে।’
from Eisamay https://ift.tt/2OOSdEt
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন