বরিশালের টাইমস, জাতীয়, রাজনীতি, অর্থনীতি, সারা বাংলা, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, চাকরি, বিনোদন, সাতসতেরো, ক্যাম্পাস, অন্যান্য

Breaking

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৯

ভোটের টানেই জমে ব্যবসা, এ পার বঙ্গে হরবোলা ইদ্রিস

আশিস নন্দী ■ বারাসতভোটের বাজার এলেই কদর বাড়ে তাঁর। ওপার বাংলায় আওয়ামি লিগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির পাশাপাশি এপারের তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস প্রার্থীরাও আছেন তাঁর ‘ক্লায়েন্ট’দের তালিকায়! তিনি ইদ্রিস আলি। পেশায় হরবোলা।তবলা হোক বা গিটার। হারমোনিয়াম থেকে অক্টোপ্যাড এমনকী, পশু-পাখির ডাকও হুবহু নকল করতে পারেন ইদ্রিস। নকল করতে পারেন বিখ্যাত শিল্পীদের গানও। দুই বাংলার নানা সিনেমা মায় বলিউডের বিখ্যাত সব সংলাপও তাঁর কণ্ঠস্থ। দেখাতে পারেন জাদুবিদ্যাও!গত ২০ বছর ধরেই নিয়মিত ভারতে আসেন ইদ্রিস। তবে ভোটের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে। ২০১৪ সালের লোকসভা এবং ২০১৬-র বিধানসভা ভোটেও পাসপোর্ট-ভিসা করিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসে নানা জনসভায় শ্রোতাদের মনোরঞ্জন করে গিয়েছেন।আপাতত ইদ্রিসের আস্তানা বারাসতের কদম্বগাছির হেমন্ত বসু নগর কলোনি। তবে এখনও বরাত সে ভাবে আসেনি। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে ইদ্রিস আত্মবিশ্বাসী--- ভোটের পারদ চড়লেই ‘দর’ চড়বে তাঁরও।ইদ্রিসের জন্ম যশোহর জেলার কোতোয়ালি থানার সিরাজসিংহ উত্তরপাড়ায়। অর্থের অভাবে পড়াশুনা বেশিদূর এগোয়নি। টেনেটুনে স্কুলের পাঠ শেষ করেছেন। তবে ছোটবেলা থেকেই যে কোনও গান, সংলাপ, বাচনভঙ্গি নকল করতে ভালোবাসতেন। সঙ্গে চটজলদি ছড়া বা গান বেঁধে চমকে দিতে পারতেন মানুষকে। মাত্র ১২ বছর বয়সে হরবোলা কৌতুকশিল্পী হিসেবে পরিচিতিও তৈরি হয়েছিল। গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য ঢাকার রাজপথে রিকশাও টানতে হয়েছে একসময়!বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারে অংশ নিলেও ইদ্রিস নিজে কখনও রাজনীতি করেননি। সাফ বললেন, ‘কিছু বাড়তি রোজগারের জন্যই ভারতে এসেছি।’ তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি এ দেশের রাজনীতি সম্পর্কেও তিনি ওয়াকিবহাল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি রাজ্যস্তরের কয়েকজন সিপিএম নেতার নামও তাঁর জানা। ইদ্রিস বলেন, ‘যে দল আমাকে টাকা দিয়ে বুক করবে, আমি তার হয়েই প্রচার করে দেব।’ জানালেন জনসভার আগে তাঁকে শুধু বলতে হবে প্রার্থীর নাম, দল, কেন্দ্র এবং প্রতীকচিহ্ন। ব্যাস, কিছুক্ষণ মাথা খাটিয়ে এক বা একাধিক গান বেঁধে ফেলবেন আর বাংলাদেশ থেকে আনা হ্যান্ডমাইকের সাহায্যে সেই প্রার্থীর হয়েই প্রচার চালিয়ে যাবেন!কিন্তু ভোটের সময় তাঁর গন্তব্যের ক্ষেত্রে কেন অগ্রাধিকার পায় পশ্চিমবঙ্গ?ইদ্রিসের জবাব, ‘এখানকার মানুষ শিল্পীর কদর বোঝেন। তা ছাড়া, ভাষাগত মিলটাও বড় বিষয়।’

from Eisamay https://ift.tt/2FwwA8w

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Pages