সুরবেক বিশ্বাসবছর দশেক আগে উত্তাল সময়ে কাঁধে একটা সেল্ফ লোডিং রাইফেল নিয়ে ঘুরতেন, আর এখন তিনি সমাজের মূলস্রোতে। সেই যুবক শনিবার লালগড় থেকে ফোনে বললেন, ‘ভোটের জন্য এই মাসেই ওরা বার্তা পাঠাবে বলে খবর পেয়েছি। বেলপাহাড়িতেই প্রথম সেটা ঢুকবে। বার্তা আসার কথা আকাশদার নামে।’ সিআরপিফের এডিজি কুলদীপ সিংও ‘এই সময়’-কে বললেন, ‘আকাশের নেতৃত্বে ১৭-১৮ জন মাওবাদীর একটি দল ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া জেলার ঝাড়খণ্ড সীমানা বরাবর কয়েকটি তল্লাটে ঘোরাফেরা করছে।’ঠিক এই পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ড সীমানা বরাবর সিআরপিএফের গোটা দশেক ক্যাম্প ভোটের জন্য জঙ্গলমহল থেকে কার্যত উঠে যাবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হওয়ায় চিন্তিত রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে সিআরপিএফ-কে ওই ক্যাম্পগুলি খালি না করতে অনুরোধ করা হয়েছে।রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বীরভূমের আন্তঃরাজ্য সীমানায় থাকা ওই সব সিআরপিএফ ক্যাম্প দিন দশেকের মধ্যে এক রকম ফাঁকা হয়ে যাবে। সেখান থেকে তুলে জওয়ানদের ব্যবহার করা হবে এই রাজ্য ও পড়শি রাজ্যে ভোটের কাজে। রাজ্য পুলিশের আইজি পদমর্যাদার এক অফিসারের কথায়, ‘এমনটা আগে কখনও হয়নি। ভোট গণনার পর ওই আধাসেনা জওয়ানরা শিবিরে ফিরবেন। ততদিন পড়শি রাজ্যের সীমানা বরাবর ক্যাম্পগুলিতে আধাসেনা এক রকম থাকবে না। সেই সুযোগে ভিন রাজ্য থেকে এসে কিছু ঘটাতে পারে মাওবাদীরা।’সিআরপিএফ সূত্রেও জানানো হচ্ছে, সরকারি ভাবে এখনও নির্দেশ জারি না হলেও এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে এবং ভোটে এমন পরিস্থিতি এই প্রথম। সিআরপিএফের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জেরে আমাদের ১৫০ কোম্পানি জওয়ানকে এখন জম্মু ও কাশ্মীরে রেখে দেওয়া হয়েছে। ওখান থেকে ওদের বার করা যাবে না। সেই জন্যই এ বার ভোটের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মতো কয়েকটি রাজ্যে চাপ হচ্ছে। ২০১৪-র তুলনায় বাহিনী এ বার কম পাওয়া যাবে।’এক-একটি কোম্পানিতে জওয়ানের সংখ্যা সাধারণত ১০০।নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে সব মিলিয়ে এখন প্রায় ৩০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, আধাসেনার যে ১০টি শিবির কার্যত খালি হতে চলেছে, সেগুলির অধিকাংশ ঝাড়গ্রাম জেলায়, বাকি কয়েকটি পুরুলিয়া ও বীরভূমে।তবে সিআরপিএফের এডিজি কুলদীপ সিং বলেন, ‘ওই শিবিরগুলি যে পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যাবে, তা নয়। এটা ঠিক, শিবিরে জওয়ানদের সংখ্যা অনেকটাই কমবে। তেমনটা হলে মাওবাদীদের জন্য যে সমস্যা হতে পারে, সেটা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা নিশ্চয়ই তা বিবেচনা করব।’ সেই সঙ্গে এডিজি-র বক্তব্য, ‘ঝাড়খণ্ডের যে অংশ বীরভূম লাগোয়া, সেখানে কিন্তু মাওবাদী তৎপরতা নেই বললেই চলে। ওদের গতিবিধি আছে শুধু বেলপাহাড়ি ও অযোধ্যা পাহাড় এবং লাগোয়া তল্লাটে। তা ছাড়া, আকাশের যে দলটা ঘুরছে, সেখানে কট্টর মাওবাদী বলতে বড়জোর চার-পাঁচ জন।’
from Eisamay https://ift.tt/2HPQxc6
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন