এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক জো বাইডেন শেষ পর্যন্ত হারিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে ট্রাম্প বনাম বাইডেনের এই দ্বৈরথ এ যাবত্ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইগুলোর অন্যতম। বাইডেন প্রথম দিন থেকে এগিয়ে থাকলেও তিনি যে বিজয়ী, এটা নিশ্চিত হতেই প্রায় চার দিন লেগে গেল। ২০টি ইলেকটোরাল ভোট থাকা পেনসিলভেনিয়ায় জো বাইডেনের জয়ের পরেই সাদাবাড়ির দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। আনুষ্ঠানিক ভাবে যদিও প্রেসিডেন্ট ঘোষণা হয়নি। তবে, আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলি নিশ্চিত হয়েই আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের নাম ঘোষণা করে দেয়। আর তার পরেই বেজায় খেপেছেন ট্রাম্প। মিডিয়ার উপর আগে থেকেই খাপ্পা ছিলেন। বড় মিডিয়া বাইডেনকে সমর্থন করছে, সে অভিযোগ আগেও করেছেন। এদিনও তিনি মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেইসঙ্গে প্রতিপক্ষকে হু্ঁশিয়ারির সুরে বলেন, 'নির্বাচন এখনও শেষ হয়ে যায়নি। জয়-পরাজয় আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হবে।' যা মুখে বলেননি, হাবেভাবে প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এখনই এত আনন্দ করার মতো কিছু ঘটেনি। চূড়ান্ত জয়-পরাজয়ে নির্ণায়কের ভূমিকা নিয়েছে পেনসিলভেনিয়া। যে পেনসিলভেনিয়া জো বাইডেনের জন্মস্থান। এটি আবার ডেমোক্র্যাটদের দুর্গ হিসেবেও চিহ্নিত। কিন্তু, এ বার ভোটগণার শুরু থেকে এই পেনসিলভিনিয়ায় ভালো অবস্থানে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ফল ঘোষণার শেষ পর্যন্ত এখান থেকে ২০টি ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে ভুল প্রমাণিত করে পেনসিলভেনিয়া ডেমোক্র্যাটদের দখলেই থেকে যায়। সেইসঙ্গে রিপাবলিকান ট্রাম্পের দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়। তবে, তাঁর পরাজয় শনিবারও স্বীকার করেননি। আগের অবস্থানে অটল থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কে প্রেসিডেন্ট আদালতেই তার মীমাংসা হবে। বাইডেনের প্রতি কোনওরকম সৌজন্য প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা তিনি বোধ করেননি। মামলার হুমকি দিয়ে, নিজেকে চাপমুক্ত রাখতে গলফ খেলতে বেরিয়ে যান। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প এদিন যা বলেছেন, তার মর্মার্থ, 'জো বাইডেন কেন নিজেকে বিজয়ী হিসাবে মিথ্যে দাবি করছেন, এবং তাঁর মিডিয়া সহযোগীরা কেন তাঁকে সাহায্য করার জন্য এতটা চেষ্টা করছে, তা কারও অজানা নয়।' আরও পড়ুন: এর পর, বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই বলতে থাকেন, 'সত্যিটা সামনে আসুক, আসলে ওরা এটা চায় না। ঘটনা এটাই সত্যি-- নির্বাচনের শেষ হতে এখনও বাকি আছে। জো বাইডেন একটি রাজ্য থেকেও এখনও পর্যন্ত শংসাপত্র পাননি।' এ প্রসঙ্গে কয়েকটি রাজ্য পুনর্গণনা, আইনি মামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন ট্রাম্প। পেনসিলভেনিয়া নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, সেখানে তাঁর অবজারভারদের গণনাপ্রক্রিয়া দেখতে দেওয়া হয়নি। মিডিয়ার উপর বিষোদ্গার করে বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে হবেন, 'এটা মিডিয়া ঠিক করে দেবে না। ঠিক হবে বৈধ ভোটে।' আরও পড়ুন: ধনী ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতির মাঠে নামা ট্রাম্প ২০১৬ সালে সবাইকে চমকে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই তিনি ছিলেন বিতর্কিত। গত চার বছরে আমেরিকায় বিভাজন সৃষ্টিকারী নীতি ও বক্তব্যের কারণে তাঁর প্রচুর সমালোচনাও হয়েছে। তাঁকে ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ারও কথা উঠেছিল। মেক্সিকোর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের কথা বলতে গিয়ে একবার তিনি বলেছিলেন, মেক্সিকো থেকে ধর্ষণকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিরও অভিযোগ তুলেছেন একাধিক মহিলা। আরও পড়ুন: এ বছর নির্বাচনের আগে-পরে মার্কিন নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রিপাবলিকান পার্টিতেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজের মতো শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা তাঁর পক্ষ নিলেও অনেকেই প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতা করছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সেনেটর মিট রমনির মতো প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা। তিনি বলেন, ‘ভোট গণনা করা হবে। যদি কোনও অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তা হলে তার তদন্ত হবে। শেষ বিচারে আদালতে নিষ্পত্তি হবে। গণতন্ত্রের ওপর আস্থা রাখুন। আমাদের সংবিধান এবং আমেরিকার জনগণের ওপর আস্থা রাখুন।’মেরিল্যান্ডের গভর্নর ল্যারি হোগানও ট্রাম্পের আচরণে ক্ষুব্ধ। বলেন, 'ট্রাম্পের কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন খর্ব না হয়, তা দেখতে হবে।' টেক্সাসের আর রিপাবলিকান নেতা উইল হার্ড প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অবজ্ঞা করছেন। কোনও রকম প্রমাণ ছাড়াই আমেরিকানদের বৈধ ভোট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এটা শুধু বিপজ্জনক ও ভুলই নয়, যে ভিত্তির ওপর আমাদের জাতি দাঁড়িয়ে, তাকেই অবজ্ঞা করা হচ্ছে।’ ট্রাম্প এদিন আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সোমবার থেকেই মামলা-মোকদ্দমা শুরু হবে বলে। নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, 'আমেরিকার জনগণ একটি সৎ নির্বাচনের অধিকারী। এর অর্থ সমস্ত আইনি ব্যালট গণনা করা, কোনও অবৈধ ব্যালট গণনা নয়।' ক্ষুব্ধ সুরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'আমেরিকার জনগণের যথাযথ ভোট গণনা না-হওয়া পর্যন্ত আমি বিশ্রাম নেব না।' এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/3k6IvLl
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন