বরিশালের টাইমস, জাতীয়, রাজনীতি, অর্থনীতি, সারা বাংলা, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, চাকরি, বিনোদন, সাতসতেরো, ক্যাম্পাস, অন্যান্য

Breaking

সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯

কাদাজলে ভেসে গেল অপু-দুর্গা

অশীন বিশ্বাস, ব্যারাকপুর নষ্ট হয়ে গেল 'পথের পাঁচালীর' প্রথম সংস্করণ! ব্যারাকপুর স্টেশন রোডে কথাসাহিত্যিক আজ সঙ্কটে। ব্যারাকপুর পুরসভার উদ্যোগে বিভূতিভূষণের বাড়ি লাগোয়া সুকান্ত সদনের গা ঘেঁষে থাকা ফাঁকা জমিতে হচ্ছে। আর সেই নির্মাণের জেরেই বিভূতিভূষণের বাড়িতে দেখা দিয়েছে ফাটল। ভেঙে পড়ছে বাড়ির দেওয়াল। সবচেয়ে বড় কথা, ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ির একতলায় জমেছে নোংরা জল। এই একতলাতেই রয়েছে সংগ্রহশালা। সেই ঘরের মধ্যেও জল ঢুকে গিয়ে বিভূতিভূষণের নিজে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, এমনকী 'পথের পাঁচালী'র প্রথম সংস্করণও নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ বিভূতিভূষণের পুত্রবধূ, তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সব জেনেও যেন হুঁশ নেই স্থানীয় পুরসভার। নিন্দায় সরব হয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। ১৯৫০ সালে বিভূতিভূষণের মৃত্যুর পর ব্যারাকপুর স্টেশন রোডে আড়াই কাঠা জমিতে বাড়ি গড়ে তোলেন তাঁর স্ত্রী রমা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এটি বিভূতিভূষণের বাড়ি বলেই পরিচিত। বিভূতিপুত্র তারাদাস সপরিবারে থাকতেন এই বাড়িতে। তারাদাসের মৃত্যুর পর এখন থাকেন মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সপরিবারে তাঁর বড় ছেলে তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়। মিত্রাদেবীর আর এক ছেলে তৃণাঙ্কুর থাকেন কলকাতার বাইরে। তিনতলা এই বাড়ির একতলায় রয়েছে একটি সংগ্রহশালা, যেখানে রাখা রয়েছে বিভূতিভূষণের শাল, জামা, হুঁকো, সুটকেস, পাণ্ডুলিপি ও ডায়েরি। ব্যারাকপুর পুরসভার 'সৌজন্যে' যার বেশির ভাগটাই নষ্ট হতে বসেছে। কারণ, কথাসাহিত্যিকের বাড়ি ঘেঁষেই তৈরি করা হচ্ছে বহুতল। সেখানে মার্কেট কমপ্লেক্সের পাশাপাশি একই বিল্ডিংয়ের মধ্যে ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম, এমনকী বেসমেন্টে গাড়ি পার্ক করার জায়গাও করা হচ্ছে। আর তা করতে গিয়েই বিভূতিভূষণের বাড়ির তিনতলার একাংশে ফাটল ধরেছে। ভেঙে পড়েছে পাঁচিল। পিলারের জন্য মাটির নীচে গর্ত খোঁড়ার ফলে লাগোয়া ৭০ বছরের পুরোনো বাড়ি যেমন কাঁপছে, তেমনই ভোর ছ'টা থেকে রাত পর্যন্ত যন্ত্রের বিকট আওয়াজে অতিষ্ঠ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা। কম্পনের তীব্রতা এতটাই যে ভেঙে পড়ছে বাড়ির জানালার কাচ, টেবিলের উপর থেকে পড়ে ভেঙে যাচ্ছে কাপ-ডিশও। বাড়ি লাগোয়া ড্রেন বহুতল নির্মাণের ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বাড়ির একতলার সংগ্রহশালায় জল ঢুকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অমূল্য সব নথি। কোনও মতে ইট দিয়ে উঁচু গাঁথনি করে সেই জল ঢোকা বন্ধ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, আড়াই বছর আগে এই বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তখনই বহু স্থানীয় মানুষ ও সাহিত্যপ্রেমী এই নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। বহুতল নির্মাণ বন্ধের দাবিও জানানো হয়। কিন্তু পুরসভা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে। মিত্রা দেবী বলেন, 'আড়াই বছর ধরে আমরা যন্ত্রণা সহ্য করছি। যে ভাবে বাড়ি মাঝেমধ্যেই কেঁপে উঠছে, তাতে আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি। মাঝে-মধ্যে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে পড়ল বাড়ি। তার উপর সকাল থেকে দুরমুশ পেটানোর আওয়াজে শরীরেও খুব কষ্ট হয়। সমস্যার কথা একাধিকবার জানিয়েছি ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যানকে। সম্প্রতি পুরসভার তরফে একটি চিঠি পাঠিয়ে আমাকে জানানো হয়েছে, বাড়ির যা ক্ষতি হবে তা পুরসভা মেরামত করে দেবে'। ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাসও বলেন, 'নির্মাণকারী সংস্থাকে আমরা বলেছিলাম, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রেখেই কাজ করতে। এর পরেও যদি কোনও ক্ষতি হয়, তা হলে আমরাই তা মেরামত করে দেব। সে কথা চিঠি দিয়ে জানিয়েওছি মিত্রা দেবীকে।' অশক্ত শরীরে মিত্রা দেবীর আক্ষেপ-ভরা পাল্টা প্রশ্ন, 'বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত অমূল্য সব জিনিসই যদি নষ্ট হয়ে যায় আর বাড়িটাই যদি ভেঙে পড়ে, তা হলে আর কী মেরামত করা হবে?' ব্যারাকপুরের বাসিন্দা এবং বিশিষ্ট নাট্যকার চন্দন সেন বলছেন, 'বিভূতিভূষণের ব্যারাকপুরের বাড়ি আলাদা করে সংরক্ষণের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে ব্যারাকপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান বাড়িটি রক্ষা করার কথা বলেছিলেন। স্থানীয় পুরসভা ও সরকারের উদ্যোগ আরও সর্বাত্মক হওয়া দরকার। যাতে বিভূতিবাবুর শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করা যায়।' আরও পড়ুন:


from Bengali News, Latest Bengali News, Bengali Khabar, Bengali News Headlines, বেঙ্গলি খবর https://ift.tt/2FahcxD

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Pages