সুমন বিশ্বাসরাস্তায় আহত হয়ে পড়ে রয়েছেন কেউ। এখনকার সমাজে এই চিত্র অহরহ দেখা যায়, তার সঙ্গে যা আরও বেশি করে দেখা যায় তা হল, সেই আহত মানুষটির পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন না কেউ। এড়িয়ে যাচ্ছেন। কেউ তাঁকে একটু আগলে তুলছেন না। অথচ সেইটুকু করাই তো স্বাভাবিক। আসলে এটুকু সামাজিক দায়িত্ববোধ কি আর তেমনভাবে দেখা যায়? প্রশ্ন ওঠে মাঝেমধ্যেই। সেইসঙ্গে আহত মানুষটির পোশাক-পরিচ্ছদ যদি হয় নোংরা, মাছি ভনভন করে চারিদিকে। তাহলে তাঁকে ফেলে এগিয়ে যাওয়াটাই যেন এখনকার রীতি!কিন্তু সবাই তো পারে না তা। যেমন পারেনি রাহুল আলি, তামান্না খান, আলমগীর খানরা। মঙ্গলবার সকালে মালদার ITI কলেজের গেটের সামনে এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এক হাত, এক পা নেই। সারা শরীরজুড়ে ক্ষত। আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সেখানে। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছেন না। আসলে এগোতে চাইছেন না। এমন সময়ই ঘটনাটি চোখে পড়ে রাহুল আলির। একলা সম্ভব নয়, তাই খবর যায় বন্ধু তামান্না খান, আলমগীর খানের কাছে। ছেলেটিকে বাঁচাতে আশেপাশের অনেকের কাছেই সাহায্যের জন্যে হাত বাড়ায় রাহুলরা। কিন্তু সাহায্য আসেনি। বরং সবাই আস্তে করে যেন কোটরে ঢুকে গিয়েছেন। অগত্যা রাহুল, তামান্নারাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন আর দেরি নয়। এবার গন্তব্য হাসপাতাল। হ্যাঁ, হাসপাতালে নিয়ে গেলেন ওঁরা। তার আগে ছেলেটিকে জল, খাবার দিলেন। বোঝালেন, ওঁরও বন্ধু হতে পারে ওঁরা। কথাবার্তায় অসংলগ্নতা, বলতে পারছেন না নাম, বাড়ির ঠিকানা। চোখে যেন অবিশ্বাসের ছায়া। এবার যেন বিশ্বাস ফিরল ছেলেটার। দরদ আর ভালোবাসার জোর কি কম! অবশেষে ছেলেটিকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। প্রথমে ঠিক হয়, অপারেশন করাতে হবে তাড়াতাড়িই। তবে রাতের দিকে ডাক্তার জানিয়ে দেন, আপাতত তার আর দরকার নেই। রুটিন মাফিক চিকিৎসাতেই সম্ভাবনা রয়েছে ভালো কিছু হওয়ার। 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ' তাড়ানো রাহুল, তামান্না, আলমগীররা যখন রাতের দিকে বাড়ির পথে, তখন যেন ওদের চোখে প্রাপ্তির আনন্দ, ভালোবাসার আবেশ। একজন পঙ্গুকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াটা যতটা দায়িত্বের, ঠিক ততটাই বোধহয় জরুরি এই 'পঙ্গু' সমাজের চোখের ওপর আলো ফেলা। ওঁরা তা পেরেছে। আরও পারবে ওঁরা। আরও পারবে এই সমাজকে প্রকৃত 'শিক্ষা'টুকু দিতে।
from Eisamay http://bit.ly/2Kap31X
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন