রাজা চট্টোপাধ্যায়দলীয় কর্মীরা তো খাটছেনই, ভোট প্রচারে পাবলিক রিলেশনস ম্যানেজারদের সহযোগিতাও নিচ্ছেন কিছু প্রার্থী। মিমি-নুসরতের মতো সেলিব্রিটি প্রার্থীরা তাঁদের ভোট-প্রচারে এমন পেশাদার সহযোগী নিয়োগ করেছেন। যা পরে আরও অনেকেই অনুসরণ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রচারের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ তাঁদের কাজ নয়। প্রার্থী কোথায় প্রচারে যাবেন বা প্রচারে কী বলবেন সেগুলো দলের বিষয়। কিন্তু প্রার্থী প্রচারে যা বলছেন সেই 'কনটেন্ট' যাতে সঠিক প্যাকেজিং-এ প্রচারমাধ্যমে পৌঁছে যায়, তা সুনিশ্চিত করছেন পি আর ম্যানেজাররা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থীর প্রচারে কোন বিষয়গুলি মানুষকে আকৃষ্ট করছে, সে দিকে যেমন তাঁদের নজর, ঠিক তেমনই নেটিজেনদের মধ্যে প্রার্থীর ব্র্যান্ডিং এবং ঝকঝকে ভাবমূর্তি তুলে ধরাও তাঁদের কাজের মধ্যে পড়ছে। বিজেপির সেলেব প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় প্রচারে এমন কোনও ব্যবস্থা করেছেন কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'না, হম অকেলে হি কাফি হ্যায়।' বিজেপির আর এক প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও এমন কিছু করছেন না বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা গিয়েছে।যাদবপুরের তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী এবং বসিরহাটের তৃণমূল প্রার্থী নুসরত জাহান এ বারের ভোটের লড়াইয়ে দুই সদ্য আগত সেলিব্রিটি। তাঁদের কর্মিসভা থেকে রোড শো সর্বত্রই ভিড়ে ভিড়াক্কার। এলাকার মানুষ তো বটেই ভোটের রাজনীতিতে নবাগতা এই দুই অভিনেত্রীর প্রচারের খুটিনাটি জানতে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিপুল আগ্রহ। প্রচারে দলীয় বৃত্তের বাইরে ব্যক্তিগত ভাবে তাঁদের সহযোগীর ভূমিকায় রুদ্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কী ভাবে সহযোগিতা করছেন? রুদ্রদীপের কথায়, ওঁরা কোথায় যাবেন কী প্রচার করবেন সেটা দল স্থির করে দিচ্ছে। কিন্তু আমরা দেখছি যাতে সমস্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে কর্মসূচির তথ্য থাকে। সব জায়গায় সব কাগজ বা চ্যানেলের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে না-ও পারেন। তাই প্রচারের কথা-ছবি পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।'খুব বড় টিম নয়, দু'জন সহকর্মীকে নিয়ে কাজটা করছেন রুদ্রদীপ। তাঁর কথায়, কাজটা খুবই সেন্সিটিভ ও যথেষ্ট কাণ্ডজ্ঞান থাকা জরুরি। আস্থার ব্যাপারটাও আছে। ধরুন প্রার্থী প্রচারে বেরিয়ে খুব ক্যাজুয়ালি কোনও একটা কথা বললেন। সেটা যাতে কোনও ভাবেই প্রচারের মূল বক্তব্য হিসেবে ছড়িয়ে না-পড়ে, যাতে ভুল বোঝাবুঝি না-হয়, সে দিকেও নজর রাখাটাও আমাদের কাজ।'কেন এমন সহযোগী নিয়োগ করা? নুসরতের কথায়, 'ওঁরা খুব গুছিয়ে কাজটা করেন, তাই।' প্রার্থী পরিচিতি এবং জনসংযোগে অভিনবত্বের জন্য দুই প্রার্থীর নামে 'স্টিকার' ছাড়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে নুসরত বলেন,'তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে বেশি করে পৌঁছতে হচ্ছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে আমরা এই ধরনের স্টিকার পৌঁছে দিতে চাইছি। নতুন প্রজন্ম কিন্তু সোস্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশি সক্রিয়।'ভোটের সময় সাক্ষাৎকার, প্রচার, প্রচারের-ছবি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সেলেব প্রার্থীদের মোবাইলে ফোনে বহু প্রশ্ন, অনুরোধ, এসএমএসের বন্যা লেগেই থাকে। প্রার্থীদের পক্ষে সেগুলো অবজ্ঞা করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনই একার হাতে সামাল দেওয়াও এক রকম অসম্ভব। প্রতিষ্ঠিত জনপ্রতিনিধি বা মন্ত্রী-এমপিদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সচিব বা ব্যক্তিগত সচিবরা সে সব সামলে অভ্যস্ত। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য পেশাগত জগৎ থেকে আসা প্রার্থীরা প্রথমেই দলীয় বৃত্তে সেটা আশা করতে পারেন না। মিমি-নুসরতদের ক্ষেত্রে এই জনসংযোগটাই সামলে দিচ্ছেন তাঁদের পাবলিক রিলেশনস ম্যানেজার।
from Eisamay https://ift.tt/2OJzZDY
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Author Details
I am an Executive Engineer at University of Barishal. I am also a professional web developer and Technical Support Engineer.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন