রাজেন্দ্রনাথ বাগ জেলখানায় বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুতে নিকটজনকে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রকল্প তৈরি করল পশ্চিমবঙ্গ। গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে গিয়েছে। বন্দিমৃত্যুতে ক্ষতিপূরণে বিভিন্ন হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট বহু রায় দিয়েছে। জাতীয় ও রাজ্য মানবাধিকার কমিশনেরও সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু কোনও রাজ্যের তরফে প্রকল্প তৈরির নজির নেই। সে দিক থেকে পথিকৃৎ হল বাংলাই। কারাগারে মৃত্যুর ৬টি ক্ষেত্রকে ‘অস্বাভাবিক’ মানা হয়েছে প্রকল্পে। বন্দির আত্মহত্যায় নিকটজন পাবেন ৩ লাখ টাকা। অন্য বন্দির আঘাতে মৃত্যুতে এই অঙ্ক ৪ লাখ। নিজের আঘাতে মৃত্যুতে ৩ লাখ, কারাকর্মীর আঘাতে হলে ৫ লাখ টাকা। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে মৃত্যুতেও ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে। অন্য ভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরিজন পাবেন ৩ লাখ টাকা। সংশোধনাগার প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব, সংশোধনাগার পরিষেবার এআইজি (দক্ষিণ) এবং পরিষেবা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি (প্রেসিডেন্সি)-কে নিয়ে গঠিত কমিটি আদালতের নির্দেশ বা অন্য কোনও কর্তৃপক্ষের সুপারিশ বা মৃতের পরিজনের আবেদনের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আবেদনের ৬০ দিনের মধ্যে। নির্ভরশীল পরিজন চিহ্নিত করে শংসাপত্রও দেবে কমিটি। ক্ষতিপূরণের দাবি অগ্রাহ্য হলে বা অভিযোগ থাকলে সরকারের কাছে আবেদন করা যাবে। তবে বন্দিমৃত্যুর তিন বছর পরে কোনও আবেদন গ্রাহ্য হবে না। ২০১৮-র ১১ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়ে ওই বছর ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তা পেশ করতে বলেছিল। এক বছরেরও বেশি দেরিতে প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারি হল। হাইকোর্টের নির্দেশের নেপথ্যে ছিল সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়। হেফাজতে মৃত্যু সভ্য সমাজের পক্ষে লজ্জার এবং বন্দির জীবনরক্ষা করতে না-পারার দায় সরকার অস্বীকার করতে পারে না মন্তব্য করে ২০১৭-র ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মদন বি লোকুর ও বিচারপতি দীপক গুপ্তার বেঞ্চ বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে রায় দেয়। প্রতিটি হাইকোর্টকে মামলা শুরু করতেও বলে। সেই সূত্রেই চলা মামলায় হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩ লক্ষ টাকা ধার্য করে। ওই সময় রাজ্যের তরফে ২০১২ থেকে ’১৫-র মধ্যে জেলে ৪১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তালিকা দেওয়া হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের তরফে ওই সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত তালিকা জমার পাশাপাশি ৩ লাখ টাকার অঙ্ক অপ্রতুল বলে দাবি করা হয়। বন্দির বয়স, উপার্জন-ক্ষমতা এবং পরিবারে নির্ভরশীলের সংখ্যা বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। সেই প্রেক্ষিতেই প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। প্রকল্পে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণও যথেষ্ট নয় (কেননা, ঢের বেশি ক্ষতিপূরণের রায় রয়েছে বিভিন্ন কোর্টের) এবং কেন কারা দপ্তর স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগ না-নিয়ে পরিজনকে আবেদন করতে হবে--- সেই প্রশ্ন অবশ্য উঠছে। কারাগারে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ-কমিটির তিন সদস্যই কী করে সেই কারা দপ্তরের হয়, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেই সংশয়ও প্রকাশ করেছেন অনেক আইনজীবী। তাঁরা মনে করাচ্ছেন, হেফাজতে মৃত্যুমাত্রই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়। সুরতহাল-ময়নাতদন্ত, ম্যাজিস্ট্রেট-পর্যায়ে তদন্ত হয়। সে সব নথি বন্দির পরিজনকে দেওয়া জরুরি। আরও পড়ুন:
from Bangla News: বেঙ্গলি খবর, Latest News in Bengali, Breaking News In Bengali, সর্বশেষ সংবাদ | Eisamay https://ift.tt/2tBkW9q
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন